Wednesday, May 4, 2011

বিন লাদেনের উত্থান পতন


ওসামা বিন লাদেনের জন্ম ১৯৫৭ সালে৻
সৌদি আরবে একটি বিত্তশালী ঠিকাদার পরিবারে তিনি বেড়ে উঠেছেন৻
ওসামা বিন লাদেন তার পিতা মোহাম্মদ বিন লাদেনের ৫২ জন ছেলেমেয়ের মধ্যে ১৭তম৻
পুরনো ছবিতে দেখা যায়, ছুটি কাটাতে ইউরোপে বেড়াতে আসা ওসামা বিন লাদেন ফ্যাশনদুরস্ত পোশাক পরে আছেন৻
পিতার মৃত্যুর পরই তিনি ব্যবসার হাল ধরেন৻ সৌদি আরবের ৮০ শতাংশ রাস্তাঘাট তার পিতার কোম্পানি তৈরি করেছে বলে ধারনা করা হয়৻

মুজাহিদ বিন লাদেন

ওসামা বিন লাদেন জেদ্দায় ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে লেখাপড়া করেন৻
পরে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের দখল অভিযান তার জীবন বদলে দেয়৻
হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
বিলাসবহুল জীবন পরিত্যাগ করে তিনি আফগানিস্তানে চলে যান যেখানে তিনি আশির দশকে দখলদার সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে ধরেন৻
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন যে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ বিন লাদেনসহ মুজাহিদদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়েছে৻

মিত্র থেকে শত্রু

এই যুদ্ধে শেষ হওয়ার সাথে তার চিন্তা ভাবনাতেও পরিবর্তন আসে৻ মস্কোর প্রতি তার ঘৃণা ওয়াশিংটনের প্রতি ঘৃণায় পরিবর্তিত হয়৻
সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার পাশাপাশি তিনি আল কায়দা সংগঠন গড়ে তোলেন৻ এবং এই বাহিনীর পেছনে তার অর্থবিত্ত বিনিয়োগ করতে শুরু করেন৻
ওসামা বিন লাদেন বলেছিলেন যে তিনি ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন৻
তার দাবী মধ্যপ্রাচ্যে মুসলমানদের মাটিতে মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই যুদ্ধের ডাক দেন৻
সেসময় তিনি একটি ফতোয়া জারি করেন যেখানে তিনি ঘোষণা করেন মার্কিনদের হত্যা করা মুসলমানদের দায়িত্ব৻

শীর্ষ ফেরারি

তার ৬ মাস পরেই কেনিয়া ও তাঞ্জানিয়াতে মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলা চালানো হয় যাতে ২২৪ জন নিহত এবং আরো প্রায় ৫,০০০ মানুষ আহত হয়৻
এই হামলার জন্যে ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করা হয়৻
তোরা বোরায় আত্মগোপন করেছিলেন বিন লাদেন
তার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ওসামা বিন লাদেনকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্যে পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়৻
তাকে হত্যার জন্যে আফগানিস্তানেও অভিযান পরিচালনা করে৻
ওসামা বিন লাদেন ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর সারা বিশ্বের নজরে আসেন৻
টুইন টাওয়ারে পরিচালিত ঐ হামলায় তিন হাজারের মতো মানুষ প্রাণ হারায়৻ দুটো বিমান ছিনতাই করে বিশ্ব বানিজ্য কেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়৻
তার কয়েক বছরের মধ্যেই ওসামা বিন লাদেন বিশ্বের সবচে ঘৃন্য ও আতঙ্কিত ব্যক্তিতে পরিনত হন৻

পলাতক জীবন

আন্তর্জাতিক বাহিনী ২০০১ সালে আফগানিস্তানে প্রবেশ করে এবং ধারণা করা হয়েছিলো যে তোরা বোরার যুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছিলেন৻
তিনি তখন পাকিস্তানের সাথে সীমান্ত এলাকায় সরে যান৻
পরে ২০০৩ সালে আল জাজিরা টেলিভিশনে ওসামা বিন লাদেনের অডিও টেপ প্রচার করা হয়৻
বিন লাদেনকে এই বাড়িতে হত্যা করা হয়
বিন লাদেন তার বক্তব্যে মুসলমানদের উদ্দেশ্য পবিত্র যুদ্ধ শুরু করার আহবান জানান৻
ওসামা বিন লাদেন
ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় নেন৻ তালেবান অনুগত পাশতুন উপজাতির লোকেরা তাকে সেখানে আশ্রয় দেয়৻
পাকিস্তানে খালিদ শেইখ মোহাম্মদকে ২০০৩ সালে গ্রেফতার করার পর বিন লাদেনের সন্ধানে পরিচালিত অভিযান নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়৻
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীও তাকে গ্রেফতারের জন্যে আফগান সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়৻
ওইসব অভিযানে বেঁচে যাওয়ার পর অবশেষে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অ্যাবোটাবাদে মার্কিন সেনাদের পরিচালিত অভিযানে তিনি নিহত হন৻

মার্কিন ব্যাখ্যার কড়া প্রতিবাদ পাকিস্তানের


এই বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন ওসামা
এই বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন ওসামা
বিন লাদেনের বিরুদ্ধে অভিযানের খবর পাকিস্তানকে না জানানোর বিষয়ে মার্কিন ব্যাখ্যার কড়া প্রতিবাদ করেছে পাকিস্তান।
এর আগে সিআইএ প্রধান জানিয়েছিলেন, মূলত অভিযানের খবর ফাঁস হয়ে যেতে পারে ভেবেই তা পাকিস্তানকে জানানো হয়নি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান বশির বিবিসিকে বলেছেন, মার্কিন এই ধারনা পাকিস্তানকে উদ্বিগ্ন করেছে।
তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তান সব সময়ই সামনে থেকেছে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই অভিযানের বিষয়ে আরও জানিয়েছে যে ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে যে বাড়িটিতে বাস করছিলেন, সেখানে রোববারের মার্কিন অভিযানের সময় তিনি নিরস্ত্র ছিলেন।

সন্দেহের তীর আইএসআই এর উপর

ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর সন্দেহের তীর গিয়ে পড়ছে পাকিস্তানের ওপর, বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা বিভাগ আইএসআই এর ওপর৻
অ্যবোটাবাদের মত একটি শহরে, যেখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সেখানে কি করে পরিবার পরিজন নিয়ে বিন লাদেন এতদিন ধরে থাকতে পারলো, এ প্রশ্ন পাকিস্তানের বাইরে যেমন, পাকিস্তানের ভেতরেও উঠতে শুরু করেছে৻
এমনকি পাকিস্তানের দৈনিকগুলোর মঙ্গলবারের সম্পাদকীয়গুলোতে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে৻
osama bin laden
আই এস আই কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা যে জানতে পারেননি সেটা তাদের জন্য বিব্রতকর৻
ইসলামাবদ থেকে বিবিসির সংবাদদাতা ওয়েন বেনেট জোনস্‌ আই এস আই কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানাচ্ছেন আল কায়দার আরেক শীর্ষস্তরের নেতা আবু ফারাজ আল লিবি সেখানে লুকিয়ে রয়েছে – এই সন্দেহে গোয়েন্দারা ২০০৩ সালে অ্যবোটাবাদের ঐ বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়েছিল৻
একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এরপর থেকে বাড়িটি নিয়ে তারা আর কোন সন্দেহ করেননি৻
সন্ত্রাসবাদের সবচে বড় শিকার পাকিস্তান: জারদারী
আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারী৻
ওয়াশিংটন পোষ্ট পত্রিকায় মি: জারদারী স্বীকার করেছেন সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাছে যে এভাবে ওসামা বিন লাদেনের লুকিয়ে থাকার ঘটনা পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা বিভাগের সুনাম নষ্ট করবে৻
কিন্তু তিনি একইসাথে বলেছেন যে পাকিস্তানের ভেতরে লাদেনকে পাওয়ার অর্থ এই নয় যে পাকিস্তান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে ব্যর্থ হয়েছে৻
পাকিস্তান যেভাবে সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পৃথিবীর অন্য কোন দেশ ততটা হয়নি
আসিফ আলী জারদারী, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট
মি জারদারী বলার চেষ্টা করেছেন, পাকিস্তান যেভাবে সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পৃথিবীর অন্য কোন দেশ ততটা হয়নি৻ তিনি হিসেব দিয়েছেন পাকিস্তান একা যত সৈন্য হারিয়েছে, নেটো দেশগুলোর সবার নিহত সৈন্যদের যোগ করলেও অত হবেনা৻ তিনি বলেন, দু হাজার পুলিশ সদস্য হারিয়েছে পাকিস্তান, ৩০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে৻
ঘটনার আরো বিবরণ
সোমবারের মার্কিন অভিযানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আই৻
সেসব ব্যাখ্যায় যেটা জানা গেছে – মার্কিন কম্যান্ডোদের হামলার সময় অ্যবোটাবাদের বাড়িটায় ১৭/১৮ জন লোক ছিল৻ মার্কিন কম্যান্ডোরা অভিযান শেষে ওসামা বিন লাদেনের মৃতদেহ এবং আরেকজন জীবিত লোককে নিয়ে যায়৻ জীবিত লোকটি সম্ভবত বিন লাদেনের কোন ছেলে হতে পারে৻
আই এস আই জানিয়েছে বাড়িটিতে চারটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে৻ ধারণা করা হচ্ছে, একজন লাদেনের ছেলে, লাদেনের দুই ভাই এবং একজন দেহরক্ষী৻
যারা প্রাণে বেঁচেছেন তাদের একজন লাদেনের এক স্ত্রী, যিনি গুলি খেয়েছেন, এবং ১২/১৩ বছরের তার এক মেয়ে৻ মেয়েটি পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের বলেছে সে তার বাবাকে গুলি খেতে দেখেছে৻
ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরিজিতে বিন লাদেনের আহত স্ত্রী পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের বলেছেন, তিনি ইয়েমেনি এবং মাসকয়েক আগে তারা বাড়ীতে এসে ওঠেন৻
যুক্তরাষ্ট্রে উল্লাস
ওসামার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে উল্লাস
আই এস আই আরো জানিয়েছে ৮/৯ জন অল্পবয়েসী ছেলে ও মেয়ে ছিল বাড়িটায়৻ তাদের পরিচয় জানা যায়নি৻ আই এস আই কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের হাত বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে৻ কর্মকর্তারা বলেছেন মার্কিন একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত না হলে, এদেরকে হয়ত নিয়ে যাওয়া হত৻
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে পাকিস্তানের সরকার এবং সেনাবাহিনীর লোকজন বার বার বলার চেষ্টা করছেন অ্যবোটাবাদের এই অভিযানে পাকিস্তানের কোন সম্পৃক্ততা ছিলনা৻
কিন্তু স্থানীয় মানুষজন সাংবাদিকদের বলেছেন অভিযান শুরুর ঘন্টাখানেক আগে পাকিস্তানী সৈন্যরা এসে তাদেরকে ঘরের সমস্ত বাতি নিভিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল৻
বাড়িটি পরিচিত ছিল ওয়াজিরস্তান হাভেলি নামে
সবার নাকের ডগায় অ্যাবোটাবাদের যে বাড়িটিতে বিন লাদেন ছেলেমেয়ে স্ত্রী নিয়ে ছিলেন সেটা নিয়ে নানা খবর আসছে৻
নিউইয়র্ক টাইমস্‌ লিখেছে ২০০৫ সালে বাড়িটি নির্মান করা হয়৻ মার্কিন গোয়েন্দারা সন্দেহ করছেন আল কায়দার শীর্ষ নেতার জন্যই বিশেষভাবে নির্মিত হয়৻
মঙ্গলবার পাকিস্তানী গোয়েন্দারা কয়েকজন সাংবাদিককে ঐ বাড়ির চত্বরে নিয়ে যান যাদের মধ্যে ছিলেন বিবিসির আলিম মকবুল৻ তিনি জানাচ্ছেন তিনতলা ভবনটি অনেক উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘেরা৻ কোথাও কোথাও দেয়ালটি ২০ ফুটের মত উঁচু ৻ তার ওপর তারকাঁটা দেয়া এবং গেটে নিরাপত্তা ক্যমেরা৻
কোয়েটায় ওসামার সমর্থনে বিক্ষোভ
পাকিস্তানের কোয়েটায় ওসামার সমর্থনে বিক্ষোভ
স্থানীয় এক বাসিন্দা সাংবাদিক বলেছেন, স্থানীয়দের কাছে ভবনটি ওয়াজিরস্তান হাভেলি নামে পরিচিত৻ তারা জানত ওয়াজিরস্তানের কোন ধনী পশতুন এর মালিক৻ তবে নিরাপত্তার ঘনঘটা দেখে বাড়িটির আশেপাশে কেউ খুব একটা ভিড়ত না ৻
অভিযান লাইভ দেখেছেন ওবামা 
গত আগস্ট মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র মোটামটি নিশ্চিত হয় ওসামা বিন লাদেন অ্যবোটাবাদের এই বাড়িতে আছেন৻ গত শুক্রবার এই অভিযান অনুমোদন করেন প্রেসিডেন্ট ওবামা৻
হোয়াইট হাউজে বসে তিনি তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে সরাসরি এই অভিযান প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে৻
নৌ কম্যান্ডোদের হেলমেটে ক্যমেরা লাগানো ছিল, সেখান থেকে ৪৫ মিনিটের এই অভিযানের প্রতিটি মুহুর্ত সরাসরি লাইভ ভিডিওতে প্রত্যক্ষ করেছেন প্রেসিডেন্ট এবং তার উপদেষ্টারা৻ ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানের কিছু ভিডিও চিত্র হয়ত প্রকাশ করা হবে৻

Monday, May 2, 2011

আল-কায়দা নেতা বিন লাদেন নিহত

মার্কিন বিশেষ বাহিনী পাকিস্তানের ভেতরে অভিযান চালিয়ে আল কায়দার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছে৻
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিজেই হোয়াইট হাউজে এ খবর ঘোষণা করেছেন৻
গোয়েন্দা সংস্থার খবরের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়৻ কর্মকর্তারা বলছেন, গত অগাস্ট মাসে ওসামা বিন লাদেনের অবস্থানের বিষয়ে খোঁজ পাওয়া গিয়েছিলো৻

যেভাবে অভিযান পরিচালিত হয়

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন যে, কেন্দ্রীয় গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ রাজধানী ইসলামাবাদের উত্তরে অ্যাবোটাবাদে উচু প্রাচীরের একটি বাড়িতে ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান নিশ্চিত করে৻
শেষ পর্যন্ত বিচার সম্পন্ন হলো
প্রেসিডেন্ট ওবামা
তারা জানায় যে সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক বিভাগের বিশেষ বাহিনীর সৈন্যরা চারটি হেলিকপ্টারে করে এই বাড়িতে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে৻
এই অভিযানে অন্তত তিনজন নিহত হয়৻ খবরে বলা হচ্ছে, ওসামা বিন লাদেন মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন৻
এই অভিযানের সময় তার একজন ছেলেও নিহত হয়েছে৻
বিন লাদেনকে হত্যার খবরে মানুষের বাড়তি আগ্রহ
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন যে এই অভিযানের সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে৻
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন যে আল কায়দা নেতাকে পরে সমুদ্রে সমাহিত করা হয়েছে৻

আনন্দ উল্লাস

এর মধ্য দিয়ে চরমপন্থীদের হুমকি শেষ হয়ে যায়নি
ডেভিড ক্যামেরন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ওসামা বিন লাদেনের এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিক আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করতে শুরু করে৻
তারা হোয়াইট হাউজ ও গ্রাউন্ড জিরোর সামনে সমবেত হয় যেখানে ১০ বছর আগে টুইন টাওয়ারে আল কায়দার পরিচালিত হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারায়৻
তারা নেচে গেয়ে আনন্দ করতে থাকে, জাতীয় সঙ্গীত গায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উড়াতে থাকে৻
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থানেও এই একই রকমের প্রতিক্রিয়া হয়েছে৻
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, শেষ পর্যন্ত বিচার সম্পন্ন হলো৻
নিউ ইয়র্কে মানুষের উল্লাস
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ, টুইন টাওয়ারে হামলার সময় যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন, ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করার ঘটনা এক অসাধারণ অর্জন৻

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ব্রিটেন, ফ্রান্স এই অভিযানের প্রশংসা করেছে৻ বলেছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটা একটা বড়ো ঘটনা৻
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সতর্ক করে দিয়ে দিয়েছেন এর মধ্য দিয়ে চরমপন্থীদের হুমকি শেষ হয়ে যায়নি৻
রাশিয়াও ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করাকে মাইলফলক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছে৻
টুইন টাওয়ারে আল কায়দার হামলায় প্রায় ৩০০০ মানুষ নিহত হয়
পাকিস্তান বলেছে, সারা বিশ্বের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্যে এটা একটা বড় ধরনের ধাক্কা৻
আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে কাবুলের দীর্ঘদিনের অবস্থানই প্রমাণিত হলো৻ কাবুল বলে আসছিলো যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শেকড় শুধুমাত্র আফগানিস্তানেই প্রোথিত নয়৻
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি. চিদাম্বরাম বলছেন, ওসামা বিন লাদেনকে যে ইসলামাবাদের ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে পাওয়া গেলো সেটা একটা উদ্বেগের কারণ, যার অর্থ সন্ত্রাসীদের জন্যে পাকিস্তান অভয়ারন্য হয়ে উঠতে পারে৻
আল কায়দা নেতা পাকিস্তানে লুকিয়ে আছে এই দাবী ইসলামাবাদের তরফে সবসময় অস্বীকার করা হয়েছে৻
শীর্ষ ফেরারীর তালিকায় ওসামা বিন লাদেন

নিরাপত্তা জোরদার

এই খবরের পরপরই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল বাড়তি নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়েছে৻
সংস্থাটি বলছে, ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আল কায়দার ক্ষমতা নিঃশ্বেষ হয়ে যায়নি৻
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেছেন যে তিনি সারা বিশ্বের ব্রিটিশ দূতাবাসগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন৻ মার্কিন দূতাবাসগুলোতেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে৻