Friday, March 25, 2011

যুদ্ধপরাধ তদন্তে `গতি নেই`

 কাদির কল্লোল

গণহত্যার শিকার
গণহত্যার শিকার ঢাকার রিকশাওয়ালা
বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে তার এক বছর পূর্ণ হয়েছে৻
কিন্তু যুদ্ধ অপরাধের বিচারের দাবীতে সোচ্চার এমন একটি সংগঠন বলছে, গত এক বছরে ট্রাইব্যুনাল বিচারের লক্ষ্যে খুব একটা অগ্রসর হতে পারেনি।
এসব অভিযোগের তদন্তের ক্ষেত্রে লোকবল এবং কারিগরি সহায়তার অভাব বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে।
তবে সরকার দাবি করছে, পর্যায়ক্রমে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং তদন্তে ধীরগতি নেই।
১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন অনুযায়ী ট্রাইবুনাল, আইনজীবী প্যানেল এবং তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়েছিল গত বছরের ২৫শে মার্চ।
কিন্তু এর অনেকটা সময় পরে গত বছরেরই জুলাই মাসে ট্রাইবুনালের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বিধি তৈরি করা হয়েছিল। তারপরই তদন্ত কাজ শুরু হয়।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো তদন্ত কাজে ধীরগতির অভিযোগ করে আসছে।
ট্রাইবুনালের আইনজীবী প্যানেলের জিয়াদ আল মালুম বলেছেন, ‘‘লোকবল এবং কারিগরি সহায়তার অভাবের মধ্যেই তদন্ত কাজ চলছে। এই সমস্যাগুলো আমরা বহুবার কর্তৃপক্ষকে বলছি, তারা চেষ্টাও করছে। এতে প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে।
‘‘৪০ বছরের আগের ঘটনা। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রনালয় থেকে অধিকাংশ দলিল গায়েব করা হয়েছে। বিদেশের বিভিন্ন সূত্র থেকে সেগুলো অনেক কষ্টে সংগ্রহ করতে হচ্ছে,‍‍“ মি. আল মালুম বলেন৻
মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর মতিউর রহমান নিজামীসহ দলটির ৫জন শীর্ষ নেতা আটক রয়েছেন। এছাড়া আটক রয়েছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এদের আটক রাখার মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে৻
এদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে এই বিচার প্রক্রিয়ায় কারিগরিসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সরকারের যে কমিটি রয়েছে, সেই কমিটির প্রধান, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, দাবি করেছেন যে সরকার এক্ষেত্রে সবরকম সহযোগিতা দিচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আইনজীবীসহ লোকবল নিয়োগ করা হবে।
এছাড়াও আইন প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, তদন্তে কোন ধীরগতি নেই এবং মাস দেড়েকের মধ্যে আটক থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে পুরোদমে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
বিভিন্ন সংগঠন থেকে এমন অভিযোগও তোলা হয়েছে যে ট্রাইবুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে অনেক তথ্য প্রমাণ দেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকটা হারিয়ে গেছে।
তবে এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন আইনজীবী প্যানেলের জিয়াদ আল মালুম।
তিনি বলেছেন, যেসব তথ্যপ্রমাণ তারা পেয়েছেন, তার সবই সংরক্ষণ করা আছে।
অন্যদিকে, আটক থাকা জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
সে ব্যাপারে ২৭শে মার্চ ট্রাইবুনালে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

No comments:

Post a Comment